
ভারতে ট্যাপের পানি মানুষের খাওয়ার উপযোগী না হওয়ায় ধনী শ্রেণি প্রিমিয়াম মিনারেল ওয়াটারকে স্বাস্থ্য ও স্ট্যাটাসের নতুন প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছে। প্রিমিয়াম পানির বাজার ৪০০ মিলিয়ন ডলারের, যা গত চার বছরে ৮ গুণ বেড়েছে এবং মোট বোতলজাত পানির বাজারের ৮% দখল করেছে। টাটা, বলিউড তারকা ভূমি পেডনেকরসহ অনেকে এই সেগমেন্টে প্রবেশ করছে।
ভারতের একটি গুরমেট ফুড স্টোরে অবন্তি মেহতা ফ্রান্স, ইতালি ও ভারতের পানির ব্লাইন্ড টেস্টিং আয়োজন করছেন। এভিয়ান, পেরিয়ে, সান পেলেগ্রিনো এবং ভারতের আভা—সবই ছোট শট গ্লাসে পরীক্ষা করা হচ্ছে। মিনারেলিটি, কার্বোনেশন ও লবণাক্ততা বিচার করে মেহতা বলেন, পানি পুষ্টিগুণ দিতে পারে। ৩২ বছর বয়সী মেহতা নিজেকে ভারতের সবচেয়ে তরুণ ওয়াটার সোমেলিয়ে বলে দাবি করেন—তার পরিবার আভা মিনারেল ওয়াটারের মালিক।
ভারতে প্রিমিয়াম পানির বাজার ৪০০ মিলিয়ন ডলারের। দেশীয় প্রিমিয়াম বোতল ১ লিটারে প্রায় ১ ডলার, আমদানিকৃত ৩ ডলারের বেশি—সাধারণ বোতলজাত পানির চেয়ে ১৫ গুণ দামি। ১.৪ বিলিয়ন জনসংখ্যার দেশে গবেষণায় দেখা গেছে ৭০% ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত। ট্যাপের পানি পানযোগ্য নয়। ডিসেম্বরে ইন্দোরে দূষিত ট্যাপ পানিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বোতলজাত পানির বাজার বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের এবং ২৪% হারে বাড়ছে—বিশ্বের দ্রুততম। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে এই বাজার ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, কিন্তু বছরে মাত্র ৪-৫% বাড়ছে। ইউরোমনিটর বলছে, ভারতে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট ২০২১ সালে ১% থেকে গত বছর ৮% হয়েছে।
অমূল্য পান্ডিত (ইউরোমনিটর) বলেন, পৌরসভার পানির ওপর অবিশ্বাস এবং মিনারেল পানির স্বাস্থ্য উপকারিতা বোঝা গেলে এই ক্যাটাগরি বিস্ফোরক হবে। নয়াদিল্লির রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার বি.এস. বত্রা বলেন, বাড়িতে শুধু প্রিমিয়াম পানি ব্যবহার করেন—খনিজের জন্য এবং স্বাস্থ্য রক্ষায়। “দিনভর বেশি এনার্জেটিক লাগে। হুইস্কিতেও মিনারেল ওয়াটার মেশাই, বাচ্চারা স্মুদিতে ব্যবহার করে।”
পেপসি, কোকা-কোলা ও বিসলেরি সাধারণ ২০ সেন্টের বোতলের বাজার দখল করে। ধনীরা বাড়িতে পিউরিফায়ার ব্যবহার করেন যা খনিজও কমিয়ে দেয়। বলিউড তারকা ভূমি পেডনেকর ও তার বোন ব্যাকবের ৭৫০ মিলি কার্টনে ২.২ ডলারে মিনারেল ওয়াটার বিক্রি করছেন। টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টস প্রিমিয়াম সেগমেন্টকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সিইও সুনিল ডি’সুজা বলেন, ধনী ও স্বাস্থ্যসচেতন গ্রাহকরা দাম নিয়ে চিন্তা করেন না। “এই ব্যবসার লম্বা রানওয়ে আছে।”
টাটার হিমালয়ান ফ্যাক্টরি হিমাচল প্রদেশে হিমালয়ের পাদদেশে—ভূগর্ভস্থ অ্যাকুইফার থেকে পানি নেওয়া হয়। টাটা স্পার্কলিং হিমালয়ান লঞ্চ করতে চায় এবং নতুন স্প্রিং খুঁজছে। ফুডস্টোরিজ চেইনে ২০২৫ সালে প্রিমিয়াম ওয়াটারের বিক্রি তিন গুণ হয়েছে। নিউ ইয়র্কের সারাটোগা স্প্রিং ওয়াটার ৩৫৫ মিলি ৯ ডলারে বিক্রি হয়ে দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
আভার বিক্রি গত বছর ৯ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, ২০২১ থেকে বছরে ৪০% বৃদ্ধি। টাটার প্রিমিয়াম ও বেসিক পোর্টফোলিও ছয় বছরে দশ গুণ বেড়ে ৬৫ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, বছরে ৩০% বাড়ার সম্ভাবনা। আমদানিকৃত পানিতে ৩০% এর বেশি ট্যাক্স—পেরিয়ে, সান পেলেগ্রিনো, এভিয়ান ৭৫০ মিলিতে ৩.২০ ডলারের বেশি।
অবন্তি মেহতা বলেন, “ট্যাপ খুললে আভা বা এভিয়ান পাওয়া যায় না। আসলে এটার জন্যই টাকা দিচ্ছেন।” টেস্টিংয়ে অংশগ্রহণকারী হোশিনি বলেন, অভিজ্ঞতা ভালো কিন্তু দৈনন্দিন ব্যবহারে দাম বেশি।