
পানামার সুপ্রিম কোর্ট বৃহস্পতিবার রাতে হংকংভিত্তিক সিএইচকে হাচিসনের সাবসিডিয়ারি পানামা পোর্টস কোম্পানির পানামা খালের প্রবেশমুখে বালবোয়া ও ক্রিস্টোবাল টার্মিনাল পরিচালনার মূল চুক্তিগুলো অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছে। এই রায় পানামা খালের আশপাশের পোর্ট অপারেশনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে।
পানামার সুপ্রিম কোর্ট “ব্যাপক আলোচনার” পর রায় দেয় যে, ১৯৯০-এর দশক থেকে চলা পানামা পোর্টস কোম্পানির সঙ্গে রাষ্ট্রের চুক্তি—যা বালবোয়া ও ক্রিস্টোবাল টার্মিনালের উন্নয়ন, নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য—অসাংবিধানিক। এই টার্মিনালগুলো পানামা খালের প্রশান্ত ও আটলান্টিক প্রবেশমুখে অবস্থিত এবং খালের জলপথ পরিচালনা থেকে আলাদা।
রায়টি যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যপথ নিয়ে প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রভাব কমাতে এবং পানামা খালের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাপ দিয়ে আসছেন। খাল দিয়ে বিশ্বের প্রায় ৫% সামুদ্রিক বাণিজ্য চলে।
সিএইচকে হাচিসন রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি। হংকংয়ে কোম্পানির শেয়ার শুক্রবার ৪% এর বেশি কমেছে। এই রায় সিএইচকে হাচিসনের বিশ্বব্যাপী ডজনখানেক পোর্ট—পানামার টার্মিনালসহ—ব্ল্যাকরক ও মেডিটেরেনিয়ান শিপিংয়ের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের কাছে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারে বিক্রির প্রস্তাবিত চুক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। ব্ল্যাকরক ও এমএসসি মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
চুক্তির সমালোচকরা বলে আসছেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্প্রসারিত এই চুক্তিগুলো পানামার স্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে এবং অসাংবিধানিক।
রায়ের ফলে পানামাকে পোর্ট অপারেশন চুক্তির জন্য আইনি কাঠামো পুনর্গঠন করতে হতে পারে এবং নতুন টেন্ডার আহ্বানের প্রয়োজন হতে পারে। পানামা ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবে শিপিং লাইনগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ—যেখানে একাধিক রুটের জাহাজের মধ্যে কনটেইনার স্থানান্তর হয়। অব্যাহত পোর্ট অপারেশন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মামলায় হেরে যাওয়ায় পানামা পোর্টস সম্ভবত আরবিট্রেশন অভিযোগ দায়ের করবে।