
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চীন সফরে যাচ্ছেন, যা ২০১৮ সালের পর কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চীন সফর। সফরের লক্ষ্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অস্থির নীতি ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে হুমকি উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তিন দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন, যেখানে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বেইজিংয়ের পর তিনি সাংহাই সফর করবেন এবং সংক্ষিপ্তভাবে জাপান যাবেন। সফরে ডজনখানেক ব্যবসায়ী নির্বাহী ও দুজন মন্ত্রী তার সঙ্গে থাকবেন।
কিংস কলেজ লন্ডনের চীনা অধ্যয়নের অধ্যাপক কেরি ব্রাউন বলেন, সফরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে “যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পের বর্তমান আচরণ ও অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের মূল্যায়ন”। তিনি উল্লেখ করেন, এআই, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের মতো কিছু বিষয়ে লন্ডন বর্তমানে বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।
২০২৪ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর স্টারমার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন দমন, গুপ্তচরবৃত্তি ও সাইবার হামলার অভিযোগে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, সফরটি চীন-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের “স্বাস্থ্যকর ও স্থিতিশীল উন্নয়নের নতুন অধ্যায়” উন্মোচনের সুযোগ। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সফর ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য নীতির প্রেক্ষাপটে ঘটছে। এ মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চীন সফরে অর্থনৈতিক চুক্তি হওয়ার পর ট্রাম্প কানাডিয়ান পণ্যের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ডিসেম্বর সফরে অর্থনৈতিক ফলাফল সীমিত ছিল।
যুক্তরাজ্য চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক চায় জনসেবা ও অর্থনীতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১২ মাসে চীন যুক্তরাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ছিল, বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড (১৩৭ বিলিয়ন ডলার)। সফরে এইচএসবিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডান নেলসন ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার সিইও পাসকাল সোরিওটসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল যাবেন।
লন্ডনের চায়না স্ট্র্যাটেজিক রিস্কস ইনস্টিটিউটের পলিসি ডিরেক্টর স্যাম গুডম্যান বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন থেকে যুক্তরাজ্য এখনও উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক লাভ পায়নি। চীন যুক্তরাজ্যে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের মাত্র ০.২% সরবরাহ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। গত বছর চীনের সঙ্গে পণ্য ও সেবার বাজার অংশ কমেছে।
স্টারমার সরকার সম্প্রতি লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে চীনের মেগা-দূতাবাস নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে, যা কিছু রাজনীতিবিদ গুপ্তচরবৃত্তির সুবিধা বাড়াবে বলে আপত্তি জানিয়েছিলেন। গত মাসে স্টারমার বলেন, চীন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, কিন্তু ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্ক জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয়।
সফরটি ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের দাবি ও আর্কটিকে চীনের হুমকির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা নেতাদের ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সংবেদনশীল মুহূর্তে ঘটছে।