
পটুয়াখালীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, অগ্নিনির্বাপন মহড়া ও নজেল ডিসপ্লেসহ বিভিন্ন আয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টায় ‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদে রাখবো সম্পদ ও জীবন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পটুয়াখালীর আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে পটুয়াখালী সদর ফায়ার স্টেশন প্রাঙ্গনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স পটুয়াখালীর সহকারী পরিচালক দেওয়ান মোহাম্মদ রাজিবের সভাপতিত্বে ও স্টেশন লিডার সুবোধ চন্দ্র মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, জেল সুপার মো. আতিকুর রহমান ও নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রেজওয়ান।
সভায় প্রধান অতিথিসহ বক্তারা বলেন, “অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি হলে অগ্নিদুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।” তাঁরা অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন-২০০৩ সম্পর্কে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে সহকারী পরিচালক দেওয়ান মোহাম্মদ রাজিব জানান, “চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাসে পটুয়াখালী জেলায় ১৪৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে ১১ জন। এ অগ্নিকাণ্ডে ২ কোটি ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে ৯ কোটি ১২ লাখ ৩৭ হাজার টাকার।”
বাংলাদেশে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ প্রতি বছর মে মাসে পালিত হয়, যার মূল লক্ষ্য অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়ন। শহরাঞ্চলে ঘনবসতি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, গ্যাস লিকেজ ও অবৈধ স্থাপনার কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত মহড়া, অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অগ্নিদুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।