
সিডনির বন্ডি বিচে ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রাণঘাতী হামলার পর ঘৃণাভাষণ দমনে নতুন আইন পাস করতে গ্রীষ্মকালীন বিরতি সংক্ষিপ্ত করে আগামী সপ্তাহে বসছে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পার্লামেন্ট। তবে একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে—এমন উদ্বেগও সামনে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, বন্ডি বিচে সাম্প্রতিক গণগুলিবর্ষণের পর দেশজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় সরকার দ্রুত কঠোর আইন প্রণয়ন করতে চায়। আগামী সোমবার ফেডারেল পার্লামেন্ট অধিবেশন বসবে এবং পরদিনই ঘৃণাভাষণের শাস্তি বাড়ানো ও আগ্নেয়াস্ত্র পুনঃক্রয় (গান বাইব্যাক) কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া আইন পাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর সিডনিতে ইহুদি হানুক্কা উদযাপন অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলায় ১৫ জন নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বন্দুকধারীরা ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ রোধে জোরালো দাবি ওঠে।
ক্যানবেরায় সাংবাদিকদের আলবানিজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করার অধিকার অস্ট্রেলীয়দের রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কেউ অন্যের কর্মকাণ্ডের দায়ে কোনো ব্যক্তিকে নিশানা করতে পারে না—সে ইহুদি স্কুলে পড়ুয়া কোনো কিশোর হোক বা হিজাব পরা কোনো তরুণী।”
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইনে বর্ণবাদী ঘৃণার অভিযোগে ভিসা প্রত্যাখ্যান সহজ করা হবে এবং নিও-নাৎসি গোষ্ঠীসহ ঘৃণাভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করার মানদণ্ড শিথিল করা হবে।
বন্ডি হামলার পর আলবানিজের বিরুদ্ধে ইহুদি সংগঠন ও ইসরায়েল সরকার সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইহুদিবিদ্বেষ বাড়লেও সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী জানান, হামলার ঘটনা, ইহুদিবিদ্বেষ এবং সামাজিক সংহতি নিয়ে একটি রয়্যাল কমিশন গঠন করা হবে।
এদিকে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বিতর্ক ছড়িয়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ‘রাইটার্স উইক’ থেকে অস্ট্রেলীয়-ফিলিস্তিনি লেখক রান্ডা আবদেল-ফাত্তাহকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বোর্ডের যুক্তি ছিল, বন্ডি হামলার পর এমন সময়ে তাকে আমন্ত্রণ জানানো “সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল” হবে না। তবে আবদেল-ফাত্তাহ একে “ফিলিস্তিনিবিরোধী বর্ণবাদ ও সেন্সরশিপ” বলে আখ্যা দেন। প্রতিবাদে প্রায় ১০০ জন লেখক উৎসব থেকে সরে দাঁড়ান। পরিস্থিতির জেরে উৎসবের চেয়ারম্যান ও তিন বোর্ড সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসেও কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্যের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস জানিয়েছেন, অবৈধভাবে পরিচালিত প্রার্থনালয়ে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের ক্ষমতা স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া এক ধর্মীয় নেতার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রার্থনালয় বন্ধ করতে জটিলতার মুখে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ফেয়ারফিল্ড শহরের মেয়র ফ্র্যাঙ্ক কারবোনে রয়টার্সকে বলেন, ঘৃণাভাষণ নির্ধারণের দায়িত্ব স্থানীয় কাউন্সিলের হওয়া উচিত নয়। তার মতে, শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা সবসময় বজায় থাকা প্রয়োজন।