
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাউয়েল বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন তাকে আদালতে অভিযুক্ত করার হুমকি দিয়েছে — এমন অভিযোগ তিনি আইনী হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে কেন্দ্রিয় ব্যাংকের স্বাধীনতা এবং মুদ্রানীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে: ১১ জানুয়ারি রাতে পাউয়েল একটি বিবৃতিতে জানান, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ) ফেডারেল রিজার্ভকে গ্র্যান্ড জুরি **সাবপিনা** জারি করেছে এবং ২০২৫ সালের জুন মাসে তার সেনেট ব্যাংকিং কমিটিতে দেওয়া **সাক্ষ্যের ভিত্তিতে** ক্রিমিনাল ইন্ডিক্টমেন্টের হুমকি দিয়েছে। পাউয়েল বলেন, এসব হুমকি তার সাক্ষ্য বা ফেড ভবনের সংস্কার প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত নয়; বরং তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ হার নির্ধারণে প্রশাসনের পছন্দকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা বলে তিনি অভিহিত করেছেন।
পাউয়েল বলেন, “সর্বোচ্চ আদালতের চেয়েও কেউ উপরে নয়, কিন্তু এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী কর্মকান্ডকে প্রশাসনের চাপ ও হুমকির প্রসঙ্গে দেখা উচিত।” তিনি যুক্তি দেন যে, ফেড সাধারণ মানুষের কল্যাণে সুদ হার নির্ধারণ করলে তা প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক পছন্দকে মান্য না করে।
প্রতিক্রিয়ায়, রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস আদালতের এই হুমকি **ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা** প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং মামলার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ফেড রদবদলসহ সকল মনোনয়নে বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি নেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান রাখেন না এবং পাউয়েলকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ভবন ব্যবস্থাপনায় “তোয়াজ্জি” বলেছেন। বিচার বিভাগ বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে, তবে রাজস্বদাতাদের অর্থ অপব্যবহারের তদন্তে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
টিকা দিতে হবে যে, ফেডের স্বাধীনতা — বিশেষত মুদ্রানীতি নির্ধারণে — দীর্ঘমেয়াদী মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসাবে বিবেচিত হয়, যাতে রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন এই ঘটনা ফেডের স্বাধীনতার জন্য বিরাট সঙ্কট সৃষ্টি করতে পারে।
পাউয়েলের চেয়ারম্যান পদ মে ২০২৬-এ শেষ হলেও তিনি ২০২৮ পর্যন্ত ফেড বোর্ডে থাকতে পারবেন, যা প্রেসিডেন্টের জন্য বোর্ডে আরও নিয়োগের সুযোগ সীমিত করে দিবে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালে ফেড ভবন সংস্কারের খরচ $২৫০ কোটি হিসাবে সমালোচনা করেছে এবং এর পেছনে আবারও নীতি চাপের ইঙ্গিত রয়েছে।