
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মোছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান শুটারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের মূল শুটার জিনাত এবং পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত বিল্লালসহ আরও দুই সহযোগী রয়েছেন।
গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে তেজগাঁওয়ের হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট সংলগ্ন গলিতে এই হামলা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাতপরিচয় একদল বন্দুকধারী আজিজুর রহমান মোছাব্বিরকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তেজগাঁও থানা ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।
গুলির শব্দে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত আবু সুফিয়ান মাসুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর নিহত মোছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা পরবর্তী তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘাতকদের শনাক্ত করে ডিবি পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম আজ বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাবেন। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক কোন্দল নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।