
বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী তেল উৎপাদন সংস্থা OPEC+ সদস্য দেশগুলো তার এজেন্ডা ঘোষণা করেছে ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসের জন্য তেল উৎপাদন অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে, যদিও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার বিশ্ব তেল বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
ডুবাই ও লন্ডন উভয় কেন্দ্র থেকে জানা গেছে, OPEC+ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যেসব সদস্য দেশ তেল উৎপাদন বৃদ্ধি করেছিল ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট প্রায় ২.৯ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন, সেই বাড়তি উৎপাদন ধরে রেখে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কোনো নতুন বৃদ্ধি বা কাটছাঁট করবে না। এই গোষ্ঠীর সদস্যেরা বিশ্ব তেলের প্রায় অর্ধেক সরবরাহ করে থাকে।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক মুহূর্তে এসেছে যখন তেল মূল্যের ডিজেল সূচক ২০২৫ সালে ১৮ শতাংশের বেশি কমেছে, যা ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় বাৎসরিক পতন। বাজারে সরবরাহের উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা উভয়ই মূল্যের নিম্নমুখী গতিকে প্রভাবিত করেছে।
OPEC+ সদস্য দেশগুলোর ভেতরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদি সংঘর্ষের কারণে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই দুভাগী সম্পর্ক তেলের বাজার নীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, যদিও ঐতিহাসিকভাবে সংস্থাটি রাজনৈতিক বিভাজন থেকে পিছিয়ে বাজার স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
তেলের বৃহত্তম অন্তর্নিহিত রিজার্ভ থাকা ভেনেজুয়েলা বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে এসেছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মাদক, সন্ত্রাস ও অস্ত্র তस्कরি সম্পর্কিত অভিযোগসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা চলছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রশাসন পরিচালনা করবে যতক্ষণ না নিরাপদ ও শৃঙ্খানুযায়ী একটি ক্ষমতার হস্তান্তর সম্ভব হয়। তবে ভেনেজুয়েলার উপ-রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ এবং দেশটির শীর্ষ আদালত তাকে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ঘোষণা করলেও তিনি মাদুরোই দেশটির বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাবে না যতক্ষণ ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো পুনর্জাগরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।