
ভেনেজুয়েলায় মাদকবাহী নৌকা লোড করার একটি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর অভিযানে এটিই দেশটির ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত স্থলভিত্তিক সামরিক তৎপরতা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্স জানায়, সোমবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় এমন একটি এলাকায় “বড় ধরনের বিস্ফোরণ” ঘটানো হয়েছে, যেখানে মাদক পরিবহনের জন্য নৌকাগুলো প্রস্তুত করা হয়। তাঁর ভাষায়, “আমরা সব নৌকায় আঘাত করেছি, এরপর সেই এলাকাতেও আঘাত করেছি… এখন সেটি আর নেই।”
তবে কোন স্থাপনায় হামলা হয়েছে বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোন সংস্থা এটি পরিচালনা করেছে—সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। সিআইএ জড়িত ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি জানেন কারা এটি করেছে, কিন্তু তা প্রকাশ করতে চান না।
এদিকে সিএনএন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি বন্দরে সিআইএ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই দূরবর্তী ঘাটটি ভেনেজুয়েলার অপরাধী চক্র ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’ মাদক মজুত ও নৌকায় তুলে বিদেশে পাঠানোর কাজে ব্যবহার করত—এমন ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের ছিল।
ট্রাম্প এর আগেও বলেছেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় সিআইএকে গোপন অভিযান চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন। গত সপ্তাহে এক রেডিও অনুষ্ঠানে তিনি ভেনেজুয়েলায় একটি “বড় স্থাপনার” বিরুদ্ধে অভিযানের ইঙ্গিতও দেন।
তবে সিআইএ, হোয়াইট হাউস এবং পেন্টাগন—কোনো পক্ষই ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়ে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেয়নি। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দিতেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। ভেনেজুয়েলার সরকারও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি এবং দেশটির ভেতর থেকে হামলার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার জুলিয়া রাজ্যে প্রিমাজোল নামের একটি রাসায়নিক কারখানায় বড়দিনের আগের দিন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ালেও প্রতিষ্ঠানটি তা নাকচ করেছে। তারা জানিয়েছে, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন। স্থানীয় বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানান, তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন, আগুন দেখেছেন এবং ক্লোরিনের গন্ধ পেয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, যা সরকারের সব গণমাধ্যম অনুরোধ দেখভাল করে, সোমবার মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার মাদক পাচার সন্দেহে নৌযানে হামলার সাফল্যের কথা প্রচার করেছে এবং পেন্টাগন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নীরবতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ট্রাম্প যে ঘটনার কথা বলেছেন, সেটি কি পুরোপুরি গোপন অভিযানের অংশ ছিল কি না।
রয়টার্স গত মাসে জানায়, মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত অভিযানের নতুন ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তখন মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, গোপন অভিযানই হতে পারে এই নতুন পদক্ষেপের প্রথম ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের মাদকবিরোধী সামরিক অভিযানে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ২০টির বেশি হামলায় অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছে। এসব অভিযানের কারণে কংগ্রেসে তীব্র নজরদারি ও বিতর্কও তৈরি হয়েছে।