
ইরান যদি আবার ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বড় ধরনের হামলায় সমর্থন দিতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে হামাসকে দ্রুত নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রয়টার্স জানায়, সোমবার ফ্লোরিডার পাম বিচে মার-এ-লাগোতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের হামলার পরও ইরান ভিন্ন স্থানে তাদের অস্ত্র কর্মসূচি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা পড়ছি যে তারা আবার অস্ত্র ও অন্যান্য কার্যক্রম গড়ে তুলছে। তারা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে না, সম্ভবত নতুন জায়গায় কাজ করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত এবং প্রয়োজনে আবারও হামলা চালাতে পিছপা হবে না।
ইরান গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে জড়ায়। গত সপ্তাহে তেহরান জানায়, তারা চলতি মাসে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালিয়েছে। তবে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত চায় না, যদিও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
গাজা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যেতে চান। এই ধাপে গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে। তবে হামাস এখনো নিরস্ত্র হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ইসরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছে—শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্র না হলে সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে।
ট্রাম্প সরাসরি হামাসকে দায়ী করে বলেন, “যদি তারা অস্ত্র না ছাড়ে, তাহলে ভয়াবহ পরিণতি হবে।” অতীতেও তিনি একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
নেতানিয়াহু জানান, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় একটি অন্তর্বর্তী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। তবে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে ইসরায়েলের মধ্যে সংশয় রয়েছে, কারণ তাদের আশঙ্কা—হামাসসহ শত্রুপক্ষগুলো আবার শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।
গাজা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে আংশিকভাবে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি এবং জিম্মি ও বন্দি বিনিময় হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে ইসরায়েলের পূর্ণ প্রত্যাহার, হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং শাসনক্ষমতা ত্যাগের কথা রয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, তিনি ও নেতানিয়াহু পশ্চিম তীর ইস্যুতে পুরোপুরি একমত নন, যদিও মতপার্থক্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানান, গাজায় তুরস্কের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে। এ বিষয়টি সংবেদনশীল, কারণ তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক বর্তমানে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৪০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সময়ে ফিলিস্তিনি হামলায় তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।