
ইন্দোনেশিয়া ও রাশিয়া-নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন (ইএইইউ) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করেছে। ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।
চুক্তিটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে গত সপ্তাহান্তে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ইএইইউ-এর সদস্য দেশ আর্মেনিয়া, বেলারুস, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী বুদি সান্তোসো।
দু’বছরের আলোচনার পর অর্জিত এই চুক্তি অনুসারে, ইএইইউ ইন্দোনেশিয়াকে তার মোট ট্যারিফ লাইনের ৯০.৫ শতাংশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক হার প্রদান করবে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটি ইএইইউ-এর ১৮০ মিলিয়ন জনসংখ্যার বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে। ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে কী ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত জানায়নি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বুদি সান্তোসো এক বিবৃতিতে বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার প্রধান পণ্যগুলো আরও বিস্তৃত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে।” এতে পাম অয়েল ও এর ডেরিভেটিভস, পাদুকা, টেক্সটাইল, মৎস্য, রাবার, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইএইইউ-এর বোর্ডের চেয়ারম্যান বাকিতজান সাগিনতায়েভের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তি দু’পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করতে পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ও ইএইইউ-এর মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ২.৬৪ বিলিয়ন ডলার।
ইন্দোনেশিয়ার প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পাম অয়েল, নারকেল তেল, কফি এবং কোকো। অন্যদিকে, ইএইইউ থেকে প্রধান আমদানি পণ্য হলো কয়লা, পটাশিয়াম সার, গম এবং ফেরো-অ্যালয়।