
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আবারও একটি মৃত ইরাবতী ডলফিন ভেসে এসেছে। শনিবার সন্ধ্যায় সৈকতের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম পাশে পুরনো শুঁটকি পল্লী এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে প্রায় ৮ ফুট লম্বা একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। স্থানীয়রা জানান, ডলফিনটির শরীরের বেশিরভাগ অংশের চামড়া উঠে গেছে, পেট ফেটে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় উপ-সদস্য আব্দুল জলিল প্রথম ডলফিনটি দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। প্রাথমিকভাবে এটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রজাতির ডলফিনের মাথা গোলাকার এবং সাধারণ ডলফিনের মতো লম্বা ঠোঁট থাকে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল ও বড় নদীতে এদের বিচরণ দেখা যায়। এটি একটি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে পরিচিত।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের জন্য অশনিসংকেত। ডলফিনের মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, “বারবার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা প্রমাণ করে সামুদ্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অসচেতন চলাচল এর জন্য দায়ী হতে পারে।”
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ডলফিনটির মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
পরে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বন বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা যৌথভাবে মৃত ডলফিনটি মাটি চাপা দেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়াকাটা উপকূলে একাধিকবার মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে, যা পরিবেশবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।