
পটুয়াখালিতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার টাকা মূল্যের ২৭৩ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে। পৃথক দুইটি অভিযানে ২০৮ কেজি পলিথিন পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার এবং ৬৫ কেজি পলিথিনসহ একজন ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশন পটুয়াখালি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে সদর থানাধীন তিতাস মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রায় ৮৩ হাজার ২০০ টাকা মূল্যের ২০৮ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পরদিন ৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় কোস্টগার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে সদর থানাধীন চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত ‘এস আর পার্সেল সার্ভিসে’ অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে প্রায় ২২ হাজার ৭৫০ টাকা মূল্যের ৬৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিনসহ প্রতিষ্ঠানটির মালিককে আটক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন এবং সংশ্লিষ্ট পার্সেল সার্ভিসকে পরিবেশবিধি মেনে চলতে সতর্ক করা হয়। জব্দকৃত সব পলিথিন পরিবেশগত ঝুঁকি এড়াতে ধ্বংসের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
২০০১ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ২০০২ সালের পলিথিন ব্যাগ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী ৫৫ মাইক্রনের কম পুরুত্বের পলিথিন উৎপাদন, আমদানি, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। এসব পলিথিন মাটির উর্বরতা নষ্ট করে, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
কোস্টগার্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষায় নিষিদ্ধ পলিথিন বিরোধী এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।