
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও তেলের দামের অস্থিরতা বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের প্রধান উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (Q2) শেয়ারবাজারে আরও পতন, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা Reuters-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অস্থির প্রথম প্রান্তিক (Q1) শেষে বৈশ্বিক বাজার এখন এমন এক পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে, যেখানে যুদ্ধসংক্রান্ত খবর সরাসরি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।
বিশেষ করে তেলের বাজার এই অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছে। চলতি প্রান্তিকে তেলের দাম প্রায় ৯০% পর্যন্ত বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা সরবরাহ বিঘ্নের সরাসরি ফল।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম ১০০ থেকে ১৯০ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।
এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে পণ্য (commodities) ও বন্ডে ঝুঁকছেন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বন্ড বাজারে বড় ধরনের বিক্রি হয়েছে এবং সুদের হার বেড়েছে, তবুও অনেক বিনিয়োগকারী ভবিষ্যতে এখানেই সুযোগ দেখছেন।
শেয়ারবাজারেও চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের S&P 500 এবং ইউরোপের STOXX 600 সূচক সাম্প্রতিক উচ্চতা থেকে প্রায় ৯-১০% কমেছে, আর জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ১৩% পর্যন্ত নেমে গেছে।
একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ায় সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে গেছে। বরং ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটে দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—তেলের ধাক্কার স্থায়িত্ব এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রতিক্রিয়া। এই দুটি বিষয়ই বাজারের ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা নির্ধারণ করবে।
এদিকে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলার শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে, যা মার্চ মাসে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখিয়েছে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) সতর্ক করেছে, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতিপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দ্রুত শেষ হলেও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি ও উচ্চ তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে চাপের মধ্যে রাখবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।
সামগ্রিকভাবে, তেল ও যুদ্ধ—এই দুই প্রধান ঝুঁকি ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।