
ফিলিপাইনের সাথে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরের ‘স্কারবোরো শোল’ (Scarborough Shoal) এলাকায় রোববার (২৯ মার্চ) বড় ধরনের সামরিক টহল পরিচালনা করেছে চীন। নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং কোস্টগার্ডের সমন্বিত এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মাত্র এক সপ্তাহ আগে দুই দেশ উত্তেজনা প্রশমনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছিল।
চীনের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড এবং দেশটির কোস্টগার্ড এক যৌথ বিবৃতিতে এই টহল কার্যক্রমের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্কারবোরো শোল এলাকাটি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ফিলিপাইনের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (EEZ) অন্তর্ভুক্ত হলেও চীন একে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে।
গত সপ্তাহে বেইজিং এবং ম্যানিলা দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ জলসীমা নিয়ে পুনরায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু করে। ২০২৩ সালের মার্চের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে এটিই ছিল প্রথম বিস্তারিত আলোচনা। ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ওই বৈঠকে বিতর্কিত এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির বিষয়ে দুই দেশ আলোচনা করেছিল।
তবে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার কথা থাকলেও সমুদ্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। ম্যানিলা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, বেইজিং ওই অঞ্চলে ‘বিপজ্জনক মহড়া’ চালাচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিপাইনের রসদ সরবরাহকারী জাহাজগুলোতে জলকামানের (Water Cannon) ব্যবহার করে বাধা দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রোববারের মহড়া প্রসঙ্গে চীনের সাউদার্ন থিয়েটার কমান্ড এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছে, “সকল প্রকার অধিকার লঙ্ঘন এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় এই টহল একটি কার্যকর পাল্টা পদক্ষেপ।” তাদের মতে, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।অন্যদিকে, বেইজিংয়ে অবস্থিত ফিলিপাইন দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে এই টহল বা মহড়া বিষয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।