
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে ঢাকামুখী মানুষের চাপ বেড়েছে নৌপথে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে বরিশাল নদীবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম ভিড় ও ভোগান্তি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিকেল থেকেই ঢাকাগামী প্রতিটি লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই ছুটি একদিন বাড়িয়ে শনিবার রওনা হয়ে রোববার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
বন্দর ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ লঞ্চেই ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ যাত্রী ওঠানো হয়েছে। যাত্রীরা জানান, ঈদের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যেই ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে।
ঢাকাগামী সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের কেবিন যাত্রী রাসেল সরদার বলেন, সময় বাড়ার সঙ্গে যাত্রীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে কেবিনের দরজা পর্যন্ত খোলা যাচ্ছে না। পুরো লঞ্চে দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। নামাজের স্থানটুকুও যাত্রীতে পূর্ণ।
আরেক যাত্রী সবুজ বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে ফিরতে মন না চাইলেও রোববার থেকে অফিস শুরু হওয়ায় যাত্রা করতে হচ্ছে।
যাত্রী আইলিন জানান, ঈদের আগে আসার সময়ও একইভাবে কষ্ট করে লঞ্চে যাত্রা করতে হয়েছে, ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিকেল থেকে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠানোর জন্য মাইকিং করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যাত্রীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৬টায় লঞ্চ ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অনেক লঞ্চ ঘাট ছাড়েনি। এতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
ডেকের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। যাত্রী ছালমা আক্তার বলেন, আগে ঢাকা–বরিশাল নৌপথে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় যাতায়াত করা গেলেও এখন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। সুন্দরবন নেভিগেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার হোসেন আকেজ বলেন, ডেকের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৪৫৩ টাকা হলেও সারা বছর কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা হয়। জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন কারণে বর্তমানে ৩০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
নদীবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ তদারকি করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বরিশাল নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে গত ২৩ মার্চ থেকে কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ শুরু হয়েছে। ২৩ মার্চ ৯টি, ২৪ মার্চ ৬টি, ২৫ মার্চ ভায়াসহ ৭টি, ২৬ মার্চ ৮টি এবং শুক্রবার ২টি ভায়াসহ মোট ১০টি লঞ্চ বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার যাত্রী লঞ্চযোগে বরিশাল ছাড়ছেন। একটি বাসে যেখানে সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহন করা হয়, সেখানে একটি লঞ্চে একসঙ্গে দুই থেকে আড়াই হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো বন্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌপুলিশ ও জেলা প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ঈদ-পরবর্তী কর্মস্থলমুখী মানুষের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।