
সাবেক র্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন্দ্র শাহ নেপালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে তার দলের বড় জয় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা Reuters জানায়, Balendra Shah শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ৩৫ বছর বয়সী শাহ কয়েক দশকের মধ্যে নেপালের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী এবং প্রথম মধেশি নেতা হিসেবে এ পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
শাহ নেতৃত্বাধীন রাস্ত্রিয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ৫ মার্চের নির্বাচনে ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৮২টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের দুর্নীতিবিরোধী ‘জেন জেড’ আন্দোলনের পর, যেখানে সহিংসতায় অন্তত ৭৬ জন নিহত হন।
শপথ অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি কূটনীতিক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শপথের পর শাহ ১৪ সদস্যের ছোট মন্ত্রিসভা গঠন করেন, যা সরকারি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতির অংশ। অর্থমন্ত্রী হিসেবে হার্ভার্ড-শিক্ষিত অর্থনীতিবিদ স্বর্ণিম ওয়াগলেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শাহ সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করা। ১৯৯০ সালের পর থেকে দেশটিতে ৩০টির বেশি সরকার পরিবর্তন হয়েছে, যা স্থিতিশীলতা ব্যাহত করেছে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ২০২৫ সালের আন্দোলনে সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর ভারত ও চীন উভয়ই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আর চীন নেপালের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।
প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার নেপালে বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং বিদেশে শ্রমনির্ভরতা বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৫০০ মানুষ কাজের জন্য বিদেশে পাড়ি জমায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে শাহের নেতৃত্বে নতুন সরকার দেশটির তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হবে, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন।