1. bulletindhaka9@gmail.com : ঢাকা বুলেটিন : ঢাকা বুলেটিন
  2. info@www.dhakabulletin.news : ঢাকা বুলেটিন :
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ইরান সংঘাতে কাতারের এলএনজি ক্ষতি: বৈশ্বিক সরবরাহে ধস, এশিয়ার চাহিদা অনিশ্চিত ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনা, কিন্তু আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই—তেহরান পটুয়াখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত পটুয়াখালীর বাউফলে লঞ্চ-ট্রলার সংঘর্ষ: দুইজন নিহত, উদ্ধার অভিযান চলমান লোহালিয়া নদীতে লঞ্চ-ট্রলার সংঘর্ষ, আওলাদ-৭ লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত তালতলীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: প্রধান দুই অভিযুক্ত র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার পটুয়াখালীতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে পাম্পে ঘুরছেন চালকরা পটুয়াখালী লঞ্চঘাটে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন ভোলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গাছ কাটার অভিযোগ, উত্তেজনা এলাকায় ভোলায় পুকুর থেকে গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার

ইরান সংঘাতে কাতারের এলএনজি ক্ষতি: বৈশ্বিক সরবরাহে ধস, এশিয়ার চাহিদা অনিশ্চিত

ঢাকা বুলেটিন ডিজিটাল ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে কাতারের রাস লাফান এলএনজি প্ল্যান্টে ক্ষতির ফলে বার্ষিক ১২.৮ মিলিয়ন টন গ্যাস উৎপাদন ৩-৫ বছরের জন্য বন্ধ থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী অবরোধ ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে এশিয়ার দাম-সংবেদনশীল ক্রেতাদের চাহিদা কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের শুরু থেকে এশিয়ার এলএনজি দাম ১৪৩% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তিন বছরের সর্বোচ্চ স্তর $২৫.৩০ প্রতি এমএমবিটিউ-তে পৌঁছেছে। এই মূল্যস্তর এশিয়ার উদীয়মান বাজারগুলোর জন্য $১০ প্রতি এমএমবিটিউ-এর আরামদায়ক সীমার অনেক ঊর্ধ্বে, ফলে চাহিদা সংকোচন অনিবার্য হয়ে পড়েছে ।

কাতারএনার্জির সিইও সাদ আল-কাবির রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানি হামলায় কাতারের ১৪টি এলএনজি ট্রেনের মধ্যে দুটি এবং দুটি গ্যাস-টু-লিকুইড সুবিধার একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বার্ষিক ১২.৮ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদন ৩-৫ বছরের জন্য বন্ধ থাকবে এবং আনুমানিক ২০ বিলিয়ন ডলার বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি, আইসিআইএস, কেপলার ও রিস্টাড এনার্জির মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের পূর্বাভাস ৩৫ মিলিয়ন টন পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে। এটি প্রায় ৫০০টি এলএনজি কার্গোর সমান, যা জাপানের বার্ষিক আমদানির অর্ধেক বা বাংলাদেশের পাঁচ বছরের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ এলএনজি পরিবহনের রাস্তা, কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাপ্লাই চেইনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। উড ম্যাককেনজির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই অবরোধ সপ্তাহে ১.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক রপ্তানির ১৯% ।

এশিয়ার দাম-সংবেদনশীল ক্রেতাদের ওপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। কাতারের এলএনজি সরবরাহের প্রায় ৮০% এশিয়ায় যায়। বাংলাদেশ ও ভারতের মতো দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কয়লা ও ঘরোয়া গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে। পাকিস্তান, যা কাতারের এলএনজির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করে শক্তি সাশ্রয় করছে। পাকিস্তান গ্যাসপোর্টের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ বলেন, “একটি চাহিদা ধ্বংসের প্রক্রিয়া চলমান”।

উত্তর এশিয়ার বড় ক্রেতা চীন তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত অবস্থানে রয়েছে। চীনের একটি রাষ্ট্রীয় গ্যাস ট্রেডার জানিয়েছেন, ঘরোয়া গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, রাশিয়ার পাইপলাইন সরবরাহ এবং আর্কটিক এলএনজি-২ প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত পরিমাণ কাতারের ক্ষতিপূরণ করতে সক্ষম হবে, যা চীনের বার্ষিক ৪০০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহারের মাত্র ৬%।

অন্যদিকে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো কম দাম-সংবেদনশীল বাজারগুলোতে সরবরাহ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। জাপানের বৃহত্তম এলএনজি ক্রেতা জেরা-র নির্বাহী রিওসুকে সুগারু বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশেষ করে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পরিবর্তিত হবে বলে আমি মনে করি না”।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যা বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক, বর্তমান ঘাটতি পূরণে অক্ষম কারণ তাদের এক্সপোর্ট প্ল্যান্টগুলো প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চলছে এবং অধিকাংশ পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ। এনার্জি ফ্লাক্স নিউজের স্বাধীন বিশ্লেষক সেব কেনেডি বলেন, “হারানো পরিমাণ সহজে প্রতিস্থাপনের কোনো উপায় নেই… যা সেই দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উল্লেখযোগ্য আঘাত”।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই সংকট এশিয়ায় ঘরোয়া জ্বালানি বিকল্পের দিকে নতুন করে ঠেলে দিতে পারে, যা স্থায়ীভাবে এলএনজি চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে। আইইইএফএ-র এলএনজি গবেষণা প্রধান স্যাম রেনল্ডস বলেন, “দাম সংকট কিছু দেশকে তাদের গ্যাস চাহিদা বৃদ্ধির হার পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে”।

ইরান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট এলএনজি সরবরাহ শক বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। কাতারের অবকাঠামো মেরামত, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এবং মূল্য স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্প উৎপাদনে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সমস্ত অধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট