
সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা ঐতিহাসিক মামলা সোমবার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) শুরু হচ্ছে। এক দশকের বেশি সময় পর পূর্ণাঙ্গভাবে কোনো গণহত্যা মামলা শুনতে যাচ্ছে আদালতটি।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি সোমবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে শুরু হচ্ছে। ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম-প্রধান দেশ গাম্বিয়া এই মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী প্রধানত মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশটির রাষ্ট্রীয় বাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে।
এটি হবে এক দশকেরও বেশি সময় পর আইসিজেতে পূর্ণাঙ্গভাবে শুনানিকৃত প্রথম গণহত্যা মামলা। মামলার রায় শুধু মিয়ানমারের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যান্য গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থার প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, এই মামলা “গণহত্যার সংজ্ঞা, তা প্রমাণের মানদণ্ড এবং লঙ্ঘনের প্রতিকার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে।”
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অভিযানে অন্তত সাত লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তারা হত্যাকাণ্ড, গণধর্ষণ ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার বর্ণনা দেয়। জাতিসংঘের একটি তথ্য-অনুসন্ধান মিশন সে সময় অভিযানে “গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড” সংঘটিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে জানায়, অভিযানে তারা মুসলিম বিদ্রোহীদের হামলার জবাবে বৈধ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০১৯ সালে আইসিজের প্রাথমিক শুনানিতে দেশটির তৎকালীন নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার অভিযোগকে “অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর” বলে আখ্যা দেন।
চলমান শুনানিতে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আদালতে উপস্থাপিত হবে। তবে সংবেদনশীলতা ও ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষার কারণে এসব শুনানি জনসাধারণ ও গণমাধ্যমের জন্য বন্ধ থাকবে।
সোমবার সকাল ১০টায় (গ্রিনিচ মান সময় ০৯০০) শুনানি শুরু হয়ে টানা তিন সপ্তাহ চলবে। এরই মধ্যে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। নির্বাচিত বেসামরিক সরকার উৎখাতের পর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে দেশজুড়ে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়। বর্তমানে দেশটিতে ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও জাতিসংঘ, কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন এসব নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করেছে।