
ভোলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২১ জন পরীক্ষার্থী ও তাদের সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, স্পাই ইয়ারবাডস ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সোহান সরকার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ জানায়, ভোলা জেলায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২৮টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষ পরিদর্শকরা সন্দেহজনক আচরণের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করেন। এ সময় অসদুপায় অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়ায় কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ৫টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ৫টি স্পাই ইয়ারবাডস ও ১৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহান সরকার জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে ভোলা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো নিয়োগ ও পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন থেকে বিরত থাকার জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।
ঘটনাটি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।