
বাংলাদেশ আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারতের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হওয়া আইসিসি মেনস টি২০ বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলবে না, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দল থেকে বাদ দেওয়া ও এর সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উত্তেজনা উল্লেখ করা হয়েছে, বলেছে বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
ঢাকায় আজ (৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারের ক্রীড়া ও ক্রীড়াবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক মুখবন্ধ বক্তব্যে জানালেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের জন্য ভারত সফর করা হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দল “ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না” এবং এই সিদ্ধান্ত “ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের একাধিক সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতির আলোকে” নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমিতে মুস্তাফিজুর রহমানের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেডাব্লিউআর) তাকে ছাড়ার ঘটনা উঠে এসেছে। দলটি জানিয়েছে যে এটি ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (বিসিসিআই)-এর নির্দেশে হয়েছে।
বিসিবি জরুরি বৈঠক করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে শ্রীলঙ্কায় করার প্রস্তাব পাঠাবার পরিকল্পনা নিচ্ছে। উপদেষ্টার সূত্র ধরে স্থানীয় মিডিয়ায় বলা হয়েছে, যদি একটি বাংলাদেশ তারকা ক্রিকেটার ভারতেই খেলতে না পারে, তাহলে পুরো দল কি নিরাপদ থাকবে সে নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ ও ভারত এর মধ্যকার সম্পর্ক ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে উত্তপ্ত। গত মাসে মুমিনসিংহে এক হিন্দু কারখানা শ্রমিককে ভিড় পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত কূটনৈতিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। ঘটনাটি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও কাড়াকাড়ি করেছিল।
বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপ সূচিতে রয়েছে গ্রুপ সি-এর অধীনে পশ্চিম ইন্ডিজ, ইটালি ও ইংল্যান্ডের সাথে তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং নেপালের সঙ্গে একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে। এই ম্যাচগুলোই এখন প্রশ্নের মুখে রয়েছে।
আইসিসি এবং বিসিবি উভয়ই এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেয়নি এবং বিসিসিআইও পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। বিরল এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিরপেক্ষতা ও ক্রীড়ানীতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি করেছে।