
চীনের জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটি শনিবার বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধন করে প্রথমবারের মতো মানববিহীন বিমান বা ড্রোনের আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করেছে। এই সংশোধনীতে ড্রোনের উড়ানযোগ্যতা সনদপত্রের বিধান যুক্ত হয়েছে, যা দেশের দ্রুতবর্ধনশীল ড্রোন ও লো-অলটিটিউড ইকোনমি খাতকে নতুন আকার দেবে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর এই নিয়মাবলীতে ড্রোনের ডিজাইন, উৎপাদন, আমদানি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনায় জড়িত সকল প্রতিষ্ঠানকে উড়ানযোগ্যতা সনদপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ড্রোন নির্মাতাদের প্রতিটি ইউনিটে জাতীয় বিধি অনুসারে অনন্য পণ্য শনাক্তকরণ কোড প্রদান করতে হবে।
চীনের লো-অলটিটিউড ইকোনমি – যা ৩০০০ মিটারের নিচে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উপর কেন্দ্রীভূত জাতীয় কৌশলগত উদ্যোগ – ২০২৫ সালের ১.৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান থেকে ২০৩০ সাল নাগাদ ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের (প্রায় ২৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেশি হবে বলে চীনা বিজ্ঞান একাডেমি, পিকিং ইউনিভার্সিটি এবং সিভিল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএএসি)-এর অনুমান।
২০২৪ সাল থেকে চালু “অস্থায়ী বিধি”তে বেসামরিক ড্রোনের বাস্তব নামে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মাইক্রো, লাইট এবং স্মল ড্রোনের জন্য উড়ানযোগ্যতা সনদের প্রয়োজন নেই, কিন্তু মিডিয়াম এবং লার্জ ড্রোনকে সিএএসি-তে আবেদন করতে হয়।
চীনের ড্রোন বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পিছিয়ে ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন শহরে অবৈধ ড্রোন পরিচালনার কারণে বিমান বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে জরিমানা এবং অন্যান্য শাস্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।
এই কঠোর বিধিগুলো বিশ্বের বৃহত্তম কনজিউমার ড্রোন নির্মাতা ডিজেআই (DJI) এবং যাত্রীবাহী ড্রোন উৎপাদক ইহ্যাং (EHang)-এর মতো কোম্পানিগুলোকে প্রভাবিত করবে।
ড্রোন লজিস্টিকস চীনের লো-অলটিটিউড ইকোনমির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে হ্যামবার্গার লাঞ্চ থেকে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পর্যন্ত ২৭ লক্ষ প্যাকেজ ড্রোনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ই-কমার্স এবং ফুড ডেলিভারি জায়ান্ট জেডি.কম এবং মেইতুয়ান দীর্ঘদিন ধরে সাপ্লাই চেইন দক্ষতা বাড়াতে ড্রোন লজিস্টিকসে বিনিয়োগের কথা বলে আসছে।
জেডি লজিস্টিকস জিয়াংসু, শানসি এবং সিচুয়ান প্রদেশে ড্রোন ডেলিভারি নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করেছে এবং জানিয়েছে যে, গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য শিপিং সময় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে ড্রোন।