
ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) নীতিনির্ধারকরা অক্টোবর সভায় সুদের হার অর্থনীতির জন্য নিরপেক্ষ স্তরে বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কেউ কেউ মনে করেন এতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা মিলবে। বুধবার প্রকাশিত সভার মিনিটসে এ তথ্য উঠে এসেছে।
নয় সদস্যের বোর্ডের কয়েকজন সদস্য বলেছেন, সাম্প্রতিক ইয়েনের দুর্বলতা আমদানি খরচ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যের চেয়ে বেশি বাড়িয়ে দিতে পারে।
মিনিটসে উল্লেখ করা হয়েছে, “কিছু সদস্য বলেছেন যে নিরপেক্ষ সুদের হার বর্তমান নীতি হারের চেয়ে বেশি। অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ও মূল্যের উন্নতির সঙ্গে মুদ্রানীতির সহায়তা সমন্বয় করলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ও মূল্যের স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়ক হবে।”
২৯-৩০ অক্টোবরের সভায় বিওজে সুদের হার ০.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখে। তবে গভর্নর কাজুও উয়েদা শিগগিরই হার বাড়ানোর সম্ভাবনার জোরালো ইঙ্গিত দেন। হকিশ সদস্য হাজিমে তাকাতা ও নাওকি তামুরা ভিন্নমত পোষণ করে হার ০.৭৫ শতাংশে বাড়ানোর প্রস্তাব করেন, যা গৃহীত হয়নি।
পরবর্তী ডিসেম্বর সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হার ০.৭৫ শতাংশে বাড়িয়েছে, যা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর।
অক্টোবরের মিনিটস থেকে জানা যায়, অনেক সদস্যই হার বাড়ানোর জন্য পরিস্থিতি পরিপক্ব দেখছিলেন। তবে আগামী বছর কোম্পানিগুলো বেতন বাড়াতে থাকবে কি না—এ বিষয়ে আরও স্পষ্টতা চেয়েছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্কের প্রভাব নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল।
একজন সদস্য প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নতুন প্রশাসনের নীতি দিকনির্দেশনা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন।
অক্টোবরের সভাটি ২১ অক্টোবর তাকাইচি প্রশাসনের উদ্বোধনের মাত্র এক সপ্তাহেরও বেশি পর অনুষ্ঠিত হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের নতুন সরকারের মুদ্রানীতি সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য খুব কম সময় ছিল।