
ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক চুক্তির সব মৌলিক বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জানুয়ারির শেষের দিকে এই চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেন। ইন্দোনেশিয়ার প্রধান আলোচক এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সোমবার রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভিডিও ব্রিফিংয়ে সিনিয়র অর্থনৈতিক মন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হার্তার্তো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার চেয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল, চা ও কফির জন্য শুল্ক ছাড়ের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম অয়েল রপ্তানিকারক এবং রোবাস্টা কফি বিনের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী।
এই মাসের শুরুতে চুক্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার অভিযোগ তোলে। তবে জাকার্তা বলেছে, এটি কেবল “ভাষা সমন্বয়ের” বিষয় ছিল এবং আলোচনার “গতিপ্রকৃতি” স্বাভাবিক।
এয়ারলাঙ্গা বলেন, আলোচনায় কিছু “গতিপ্রকৃতি” থাকলেও সব মৌলিক বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সর্বশেষ দফা আলোচনা সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “মূল বিষয় হলো আমেরিকান পণ্যের জন্য সুষম বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বাজার প্রবেশাধিকার।”
দুই দেশের কর্মকর্তারা এখন জানুয়ারির শেষের দিকে প্রাবোও ও ট্রাম্পের মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করার চেষ্টা করছেন, যেখানে এই বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।
এয়ারলাঙ্গা জোর দিয়ে বলেন, এই চুক্তিতে ইন্দোনেশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার কোনো নীতি সীমাবদ্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন, “এই চুক্তি দ্বারা ইন্দোনেশিয়ার কোনো নীতি সীমাবদ্ধ হচ্ছে না। এটি একটি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত চুক্তি, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য সুষমভাবে উপকারী।”
পরে তার দপ্তর থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
চলতি বছর জুলাই মাসে প্রাথমিক চুক্তির পর ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন, যা এপ্রিলে হুমকি দেওয়া ৩২ শতাংশের চেয়ে কম। এর বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়া আমেরিকান রপ্তানির সামনে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা অপসারণের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আরও আমেরিকান পণ্য কেনার অঙ্গীকার করে।
এয়ারলাঙ্গা বলেন, জানুয়ারিতে স্বাক্ষর না হলেও ৩২ শতাংশে ফিরে যাওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই, কারণ খসড়া চুক্তির সব বিষয় দুই পক্ষের সম্মতি পেয়েছে। তিনি বলেন, “এই আরটি (রেসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরে বাধা দেওয়ার মতো কোনো উপাদান নেই।”
জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩৬.২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার উদ্বৃত্ত ছিল ১৪.৯ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার।