
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সম্প্রতি কওমী ছাত্র সমাজ একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে তারা জেলার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের পদক্ষেপ তুলে ধরেন। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাফেজ আল মেহরাব শাওয়াল।
লিখিত বক্তব্যে হাফেজ শাওয়াল উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর জেলা সনাতনী ধর্মের অনুসারীসহ সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনূছিয়া মাদরাসা ও তালিমিয়ার পরামর্শে কওমী ছাত্ররা শহরের বিভিন্ন উপাসনালয়ে পাহাড়া দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে মেড্ডা কালভৈরব মন্দির, আনন্দময়ী কালিমন্দির, দক্ষিণ কালীবাড়ি মন্দিরসহ জেলার অন্যান্য উপাসনালয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫ আগস্টের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়িয়ে আসছে যে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা হয়েছে। এই গুজব ছড়িয়ে কিছু সংখ্যালঘু ভাইদের মাঠে নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার অপচেষ্টা চলছে। কুচক্রী মহল পাশের একটি দেশে বসে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দেশে কিছু সংখ্যালঘুর ওপর হামলার খবর এলেও তা ধর্মীয় কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হয়েছে। হিন্দু আওয়ামী লীগের কিছু নেতার বাড়ি-ঘরে আক্রমণকে ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চলছে। কওমী ছাত্র সমাজ সম্প্রতি সম্প্রীতির মেলবন্ধন অটুট রাখতে সর্বদা সচেষ্ট।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুফতি জাকারিয়া খান, কওমী ছাত্র সমাজের পক্ষে মাদরাসা ছাত্র হাফেজ ফখরুল হাসান, হাজেফ তারেক জামিল, হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী, কালভৈরব মন্দিরের পুরোহিত জীবন কুমার চক্রবর্তী, আনন্দময়ী কালি মন্দিরের পুরোহিত রাকেশ বনিক প্রমুখ।
পুরোহিতরা জানান, মাদরাসার ছাত্ররা প্রতিদিন রাতজাগা অবস্থায় মন্দিরগুলোতে পাহারা দিচ্ছেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো সংখ্যালঘুর উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি।