কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ (পিইউএসএবি) নামে একটি পেজ থেকে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সমন্বয়ক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পেজের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি-জামায়াত তাদের সরকার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতে শিক্ষার্থীদের নামে পেজ খুলে এসব উস্কানি মূলক পোস্ট দিচ্ছেন।
এরইমধ্যে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে ফেসবুক পেজ পিইউএসএবির তথ্য আমলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে কোটাবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়করা।
ওই পেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কোটাবিরোধী পোস্টের চেয়ে সরকার পতন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত পোস্ট করা হচ্ছে বেশি। সেখানে গণ অভ্যুত্থান, ইন্টারনেট ব্যবস্থা, আমাদানি-রপ্তানি নিয়ে একের পর ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্তিতে থাকে।
এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মোল্লাহ আজাদ কোটা আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ সমাধানের যেকোনো পদক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের হত্যার হুমকি দিয়েছেন। যা বিএনপি ও জামায়াতের কোটা আন্দোলনের মুখোশ ব্যবহার করে সহিংসতা চালানোর অপচেষ্টার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোল্লাহ আজাদ গত ১৮ জুলাই একটি ফেসবুক পোস্টে বলেন, সরকারের সঙ্গে যেই বসুক না কেন তাকে আমরা হত্যা করব। এটা আমাদের হুমকি। কোনো সতর্কবার্তা না। কাউকে পরোয়া করি না।
এই পোস্ট থেকে স্পষ্ট যে তারেক রহমানের নির্দেশনা গত ১৮ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউন দিয়ে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালায় বিএনপি-জামায়াত। এছাড়া মোল্লাহ আজাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও ওই সময় গুজব ছড়ায়।
এদিকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আহমেদ শিহাবকেও কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের জন্য নানা ধরনের পোস্ট দিতে দেখা যায়।
২০১৩-১৪ সাল ও সবশেষ নির্বাচনের আগেও দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াওয়ের আন্দোলন চালায় বিএনপি-জামায়াত। এবারের আন্দোলনেও মেট্রো রেল স্টেশনে হামলা, সেতু ভবন, বাংলাদেশ টেলিভিশনে আগুন সেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।