ভোলার সদর উপজেলার রাজাপুরে বিএনপি নেতা হোসেন মাঝিকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করার ঘটনায় আসিফ (২৩) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান আসিফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আসিফ রাজাপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সালাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। অন্যদিকে, আহত হোসেন মাঝি একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. হেলালউদ্দিন।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হোসেন মাঝিকে প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায় ধারালো ছুরি দিয়ে হোসেন মাঝিকে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন আসিফ।
এ ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর, রাত ১০টার দিকে হোসেন মাঝির তিন ছেলেসহ তাঁর স্বজনেরা আসিফকে ধরে মারধর করেন বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজনও মারধরে যোগ দেন। এতে আসিফ গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
হোসেন মাঝির প্রতিবেশী কৃষক মো. শাহজাহান ও মো. হাশেম চৌকিদারের দাবি, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আসিফ বিএনপি নেতা হোসেন মাঝিকে ছুরিকাঘাত করেন।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন অভিযোগ করেছেন আসিফের পরিবারের সদস্য।
আসিফের মা হালিমা বেগম ও বড় ভাই ইসমাইলের অভিযোগ, হোসেন মাঝির ছেলেসহ স্থানীয় কয়েকজন আসিফকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে আনন্দবাজার এলাকার একটি দোকানে আটকে রেখে তাঁকে মারধর করা হয়।
পরিবারের দাবি, আসিফকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে পিষে হত্যা করা হয়েছে। মাদক সেবনের অভিযোগকে তাঁরা মিথ্যা বলেও দাবি করেন।
তবে পরিবারের এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো জানা যায়নি।
সদর উপজেলার ইলিশা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক বশির আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গুরুতর আহত আসিফকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, আসিফের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।