বরিশালের হিজলা উপজেলায় বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের নাম প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন ওই তরুণীর বৃদ্ধা মা। কিছুদিন আগে মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন তাঁর নজরে আসে। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তরুণীর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
পরিবারের দাবি, এরপর তরুণী ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাঁর মায়ের কাছে অভিযুক্ত কয়েকজনের নাম জানান। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারটি বিচারের আশায় প্রায় ১৫ দিন ধরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের কাছে ঘুরছেন। তবে তাঁদের অভিযোগ, এ ঘটনায় সমঝোতা ও দরকষাকষির মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আব্দুস ছাত্তার মাঝি বলেন, অসহায় ও প্রতিবন্ধী তরুণীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এমন অপরাধের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তিনি দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় থাকা পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান বলেন, তিনি এখনো ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। তবে লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ কিংবা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভর করছে।