পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নে গণঅধিকার পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত রণগোপালদী ইউনিয়নের এক বছরের জন্য আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
সোমবার বিকেলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মাইদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মামুন তালুকদারসহ নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে গেলে সাবেক ইউনিয়ন আহ্বায়ক ও বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মুছা মাঝির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তাদের প্রবেশে বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
মাইদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মুছা মাঝি ও তার সমর্থকরা তাদের প্রবেশে বাধা দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, যাতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তবে মুছা মাঝি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা কার্যালয়ে বসে আলোচনা করছিলেন, এমন সময় মাইদুল ও মামুনের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন লোক এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
আহতদের প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাদের দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বাকি আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আলতাফ আকন ও সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।