পটুয়াখালীর বাউফলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে প্রেসক্লাব ভবন থেকে বের হওয়ার পথে এক ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও ছেলের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই তিনজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাবের বীর উত্তম সামসুল আলম তালুকদার ভবনের মূল ফটকে সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর নাম মো. ফরিদ তালুকদার (৫২)। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শিল্পপতি একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদারের ছোট ভাই। স্থানীয় পর্যায়ে ফরিদ তালুকদার ও তাঁর পরিবার দানশীল হিসেবে পরিচিত এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
বাউফল প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাউফল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে ফরিদ তালুকদারের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী মর্জিনা আক্তার (৪৫) ও ছেলে মো. আলিফ তালুকদার (২৩) উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় তিনি আসন্ন নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন, যা সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি প্রচার করেন।
ফরিদ তালুকদার অভিযোগ করেছেন, মতবিনিময় শেষে প্রেসক্লাব ভবন থেকে বের হওয়ার সময় বাউফল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশ ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ইমাম হাসানের নেতৃত্বে কতিপয় সন্ত্রাসী তাঁদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। হামলার এ ঘটনা প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনেই ঘটে। উপস্থিত সাংবাদিকদের সহায়তায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রেসক্লাবের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, মাসুম বিল্লাহ বাউফল পৌরসভা বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরের ভাগ্নে এবং ইমাম হাসান হলেন হুমায়ুন কবিরের ছেলে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’