পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি কে এম বাচ্চু খলিফার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা সৈকত হোটেলের সামনে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।
আহত কে এম বাচ্চু খলিফা দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর কুয়াকাটা প্রতিনিধি হওয়ার পাশাপাশি কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতি এবং কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ১১টার দিকে সৈকত হোটেলের সামনে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছিলেন বাচ্চু। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।
ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে হারুন মুসল্লী (পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক), বাইজিদ (কুয়াকাটা পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি) এবং শহিদ সিকদার (কুয়াকাটা পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ও পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে আরও পাঁচ থেকে ছয়জন হামলায় অংশ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অটোরিকশাচালক জামাল মোল্লা বলেন, “আমি গাড়ি নিয়ে সৈকতের সামনে পৌঁছালে দেখি কয়েকজন বাচ্চু ভাইকে জিজ্ঞেস করছেন, আমাদের বিরুদ্ধে নিউজ করছো কেন? তিনি সরে যেতে চাইলে সবাই মিলে তাকে মারধর করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।”
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক জোবায়ের আহমেদ রিয়াজ বলেন, “ঘটনার বিষয়টি আমি জেনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, “কুয়াকাটায় আমরা শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। কেউ যদি যুবদলের নাম ব্যবহার করে বা দলের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”