পটুয়াখালীতে গৃহবধূ তানিয়া (৩০) হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তানিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। তাদের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
নিহতের বাবা ও মামলার বাদী অলি মুন্সী বলেন, ‘আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার আগের রাতেও সে নির্যাতনের কথা স্বজনদের জানিয়েছিল। সকালে তার ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমার মেয়েকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, যৌতুক হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে তানিয়ার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। গত ১৪ জুলাই রাতে নির্যাতনের একপর্যায়ে তাকে হত্যা করে পরদিন বাড়ির পাশের একটি কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় অলি মুন্সী বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মো. কামাল খান (৪২), তার দুই মেয়ে মোসা. লিজা খান (২২) ও মোসা. লিমা খান (২০), কামাল খানের মা মোসা. আম্বিয়া (৬২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।