পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং, বটম ট্রলিং এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধের দাবিতে স্থানীয় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে উপজেলার আশাখালি মৎস্য বন্দরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে আশাখালি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মাইনুদ্দীন দালাল, সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম রেজা, ব্যবসায়ী মো. শাহজাদা হাওলাদার, মো. মর্তুজা আহমেদ এবং জেলে সোহাগ গাজী ও মো. সাইদুলসহ স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং ও বটম ট্রলিং পরিচালনা করছে। বেহুন্দি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছ শিকারের ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে পরিবার চরম জীবিকা সংকটে পড়েছে। তারা অবৈধ ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও জোরালো অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। একই সঙ্গে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘সামুদ্রিক মৎস্য আইনের তফসিল অনুযায়ী এ বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতাভুক্ত নয়। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যাচ্ছে না। জাল বা ট্রলার আটক করে মামলা দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু মামলার পর আদালত থেকে অভিযুক্তরা জামিনে জাল ও ট্রলার ছাড়িয়ে নিচ্ছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘মৎস্য বিভাগের নিজস্ব নৌযান না থাকায় সমুদ্রে কার্যকর নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ট্রলিং ব্যবসায়ীরা উচ্চ আদালত থেকে একটি স্থগিতাদেশ এনেছেন, যার ফলে আগামী ছয় মাস ট্রলিংয়ের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক বা হয়রানি করা যাবে না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’