ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় সম্পত্তির গাছ কাটা ও জমিতে জোরপূর্বক চাষাবাদ শুরুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৫ জনকে আসামি করে ঝালকাঠি সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহাদিপুর মৌজার আরএস ২/৪/৫/২০/১২০/১৯১ এবং এসএ ১/৯/১৯৩/৪৯ নম্বর খতিয়ানের মোট ৩৪ একর ৫৪ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন মৃত মুজাহার জোমাদ্দারের ছেলে আব্দুল ওয়াহেদ জোমাদ্দার। জমিটি নিয়ে ঝালকাঠি আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-১৩৬/২০০৭) বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরের ২৭ আগস্ট আদালত মামলাটি চলমান রেখে ওই জমির ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৬ জুলাই সকালে বিবাদী পক্ষের লোকজন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিরোধীয় জমির বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেয় এবং জমিতে চাষাবাদ শুরু করে। এতে বাধা দিতে গেলে তারা গালিগালাজ করেন এবং দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় রাজাপুর গ্রামের হেমায়েত বেপারী, গিয়াস বেপারী, রিয়াজ বেপারী, পলাশ বেপারী, মো. বেল্লাল বেপারী, মো. হেলাল বেপারী, সাইদুল বেপারী, সাইফুল ইসলাম ওরফে বেলায়েত বেপারী, সাখায়াত বেপারী, লিটন বেপারী, আকাব্বর বেপারী, এনায়েত মুন্সিসহ মহাদিপুর গ্রামের খলিল হাং ও ইয়াকিন হাওলাদারকে আসামি করা হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পারভেজ জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে কিছু গাছ ও ডালপালা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রিয়াজ বেপারী ও সাইফুল ইসলাম (বেলায়েত) বেপারী বলেন, ‘জমির বৈধ মালিকানার কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে এবং বর্তমানে ওই জমির ওপর কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই।’ সুযোগ পেলে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করবেন বলেও জানান।
জমিটির মালিকানা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উভয় পক্ষ পরস্পরবিরোধী দাবি করায় বিষয়টি বর্তমানে পুলিশি তদন্তাধীন রয়েছে। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপরই নির্ভর করবে।