বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পুলিশি নির্যাতনে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ১৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলার ঘটনার পর থেকেই থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতে অভিযান চালিয়ে হামলায় জড়িত ১৮ জনকে শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িত বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি ও মাদকসহ একাধিক মামলার আসামি ফুলশী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হাজতখানায় থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই দেয়ালের সঙ্গে মাথা আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টায় তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েক শ জনতা মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন। গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির ও মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেন, তাদের ছেলেকে বিনা অপরাধে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। এ মারধরে রিয়াজের মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার চালানো হয়।
তবে ওসি মাসুদ খান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ গুজব। রিয়াজ নিজেই থানার হাজতের দেয়ালে মাথা আঘাত করে আহত হয়। সে বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’