বরিশালের মুলাদীতে জয়ন্তী নদীতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রী জামিলা আক্তার (১৪)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের স্থান থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে আড়িয়ালখাঁ নদের নন্দীরবাজার এলাকা থেকে রোববার সকালে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেন স্বজনরা।
রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় বালুবাহী ট্রলারের শ্রমিকেরা নন্দীরবাজার এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। পরে তারা গিয়ে মরদেহটি জামিলার বলে শনাক্ত করেন।
নিহত জামিলা পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রামের শাহাবুদ্দিন দেওয়ানের মেয়ে। সে ঢাকার একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত বৃহস্পতিবার মায়ের সঙ্গে মুলাদীর চরকালেখান ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামে তার নানা ছালাম হাওলাদারের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জামিলা তার ছোট বোন জান্নাতের সঙ্গে দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর লঞ্চঘাট এলাকায় জয়ন্তী নদীতে গোসলে নামে। তারা সাঁতার না জানায় অল্প পানিতে গোসল করছিল। একপর্যায়ে জামিলা পা পিছলে নদীর গভীর পানিতে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ছোট বোন জান্নাতও পানিতে ডুবে যেতে থাকে। এ সময় স্থানীয় এক পথচারী জান্নাতকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও জামিলা নিখোঁজ হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালান। শনিবার বিকেল পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ চালানোর পরেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা ফিরে যায়। এরপর স্বজনেরা ট্রলার ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে খোঁজ চালিয়ে আসছিলেন। রোববার সকালে নিখোঁজের স্থান থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে আড়িয়ালখাঁ নদে তার মরদেহ ভেসে উঠে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, "নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিভাবকদের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"