পটুয়াখালীর বাউফলে টিআর ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে প্রকল্প অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দে বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প দুটি হলো— ‘চেয়ারম্যান বাড়ির হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা সংলগ্ন মাঠে মাটি ভরাট’ এবং ‘সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার মৃধা বাড়ির মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন’।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি প্রকল্পের ঠিকানা ও অবস্থান মূলত একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, মাঠে নতুন করে কোনো মাটি ভরাট করা হয়নি। সেখানে শুধু মসজিদের ছাদের ওপর অ্যাঙ্গেল ও টিনের ছাউনি নির্মাণ এবং ঈদগাহ মাঠের পুরোনো সিসি ঢালাইয়ের ওপর সামান্য মেরামতের কাজ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাঠে মাটি ভরাট প্রকল্পের জন্য ৪ লাখ টাকা এবং মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী ইতোমধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না করেই কাগজপত্রে কাজ শেষ দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও ধুলিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জহির আহমেদ বলেন, “মাঠে মাটি ভরাটের বিষয়টি উপজেলা অফিসের টাইপিং ভুল হতে পারে। সরেজমিনে পরিদর্শনের পর তৎকালীন পিআইও বিল অনুমোদন করেছিলেন।”
এ বিষয়ে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রফিকুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।