পটুয়াখালীর দশমিনায় বাস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার মাস্টাররা। তাদের অভিযোগ, একক পরিবহন চলাচলের কারণে দশমিনা, গলাচিপা, বাউফল ও দুমকি উপজেলার সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার নলখোলা বন্দর এলাকায় বাস কাউন্টার সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চার উপজেলার প্রায় এক থেকে দেড় শতাধিক কাউন্টার মাস্টার অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দশমিনা, গলাচিপা, বাউফল ও দুমকি উপজেলার যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসা অন্তরা পরিবহন, ডলফিন পরিবহন, সাকুরা পরিবহন, বাউফল ট্রাভেলসহ প্রায় ২০টি পরিবহন গত এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে ‘দশমিনা এক্সপ্রেস’ নামে একটি পরিবহন এককভাবে যাত্রী পরিবহন করছে।
তাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত এ পরিবহনের কারণে যাত্রীদের পছন্দমতো পরিবহন বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহন পরিচালনা এবং যাত্রীবাহী বাসে মাছ ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ফলে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
অন্তরা পরিবহনের দশমিনা কাউন্টার মাস্টার কাইয়ুম বলেন, “দশমিনা এক্সপ্রেস নামে পরিচালিত বাসগুলো একটি অবৈধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চলছে। যাত্রীদের কোনো বিকল্প নেই, অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে এবং যাত্রীসেবার নামে ব্যবসায়িক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।”
কাউন্টার মাস্টার সোহেল জোমাদ্দার বলেন, “আগে চার উপজেলা থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০টি বাস ঢাকা রুটে চলাচল করত। এখন একটি সিন্ডিকেটের কারণে অন্য পরিবহনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, বাসে মাছ ও ডাব পরিবহন করা হচ্ছে এবং অনেক গাড়ির ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমরা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”
ঢাকাগামী কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমানে চলাচলকারী বাসগুলোর মান নিম্নমানের। বাসে মাছ পরিবহনের কারণে দুর্গন্ধে যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আগের তুলনায় ভাড়াও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”