ভোলা সদরের আলোচিত সুমাইয়া আক্তার মিতু হত্যা প্ররোচনা মামলায় পলাতক প্রধান আসামি স্বামী মো. সোহাগসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর রওনক জাহান সরকার বুধবার (১৭ জুন) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার অপর দুই আসামি হলেন মিতুর শাশুড়ি মোসা. কহিনুর বেগম ও খালা শাশুড়ি মোসা. মুক্তা আক্তার।
র্যাব জানায়, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের নির্দেশনায় এবং র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. সোহাগ, ২ নম্বর আসামি মোসা. কহিনুর বেগম ও ৪ নম্বর আসামি মোসা. মুক্তা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদেরকে চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট ইপিজেড থানায় হস্তান্তর করা হয়।
র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর রওনক জাহান সরকার বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি ভোলা সদর থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা চট্টগ্রাম থেকে আসামিদের নিয়ে আসার বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছেন। নারীর ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাব সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন দুপুরে ভোলা শহরের উকিলপাড়ার একটি ভাড়া বাসার পাঁচতলা থেকে গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মিতু ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মো. বশির আহমেদের মেয়ে।
মৃত্যুর আগের রাতে মিতু তার বোন মিমের মোবাইল ফোনে একটি ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়ে জানান, স্বামী সোহাগ তাকে মারধরসহ অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী সোহাগ তার শ্বশুরবাড়িতে ফোন দিয়ে তাদের দ্রুত আসতে বলেন। পরিবারের লোকজন এসে দেখেন ঘরের দরজা খোলা এবং সোহাগসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বাসায় নেই। পরে ঘরের শয়নকক্ষের খাটের ওপর মিতুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। এ ঘটনায় মিতুর বাবা বশির আহমেদ বাদী হয়ে ৫ জুন ভোলা সদর মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলা দায়ের করেন।