ভোলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডে ভূমিদস্যুদের সাথে আতাত করে তহসিলদারের মিথ্যা তদন্ত রিপোর্টের প্রতিবাদে ও সুষ্ঠ তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, ভুক্তভোগীরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভোলার একটি পত্রিকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেণ তারা। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী আব্দুল গনিসহ অন্যান্যরা বলেন, আমরা আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি আমাদের ও বৈধ সম্পত্তির ওপর ভূমি দস্যুদের বেআইনি দখল এবং স্থানীয় তহসিলদারের যোগসাজশে মিথ্যা তদন্ত রিপোর্টের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে।
স্থানীয় পৌর সভার তহশিলদার মোশারফ হোসেন ও ভূমিদস্যু জামাল ও আব্দুল মান্নান কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে সরেজমিনে তদন্ত করেও একটি মনগড়া ও মিথ্যা তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন।
ভূমি দস্যুদের কোন রকম কাগজ পত্র নৈই।তারা আমাদের নানাম ক্রয়কৃত ও রেকর্ডিং সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে। প্রতিবাদ করতে গেলে ভূমি দস্যুরা আমাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।এই পরিস্থিতিতে আমরা মাননীয় ভূমি মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমরা তহসিলদারের দেওয়া মিথ্যা রিপোর্টের বাতিলপূর্বক নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুল গণি আরো বলেন, আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি এক চরম অসহায়ত্ব ও অবিচারের কথা তুলে ধরতে।আমি আব্দুল গণি পিতা মৃত্যু সাহেব আলী আমার নানা মৃত্যু আব্দুল হাকিম এর ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হই। ১৫২/৪ সি এস খতিয়ান ৪৩৩ নং দাগে তিন একর ৫৩ শতাংশ ভূমির মালিক থাকেন মৃত আলি রাজার তিন ছেলে আব্দুল হাকিম ও আব্দুল লতিফ ও আব্দুল বারেক।তিন ভাই মালিক থাকিয়া উক্ত খতিয়ানে ও দাগের সম্পত্তি ১০-১১-১৯২৩ সালে আব্দুল হাকিম এর নিকট বিক্রি করেন।যার দলিল নং ৫৩১৩/২৩। এরপর থেকে আব্দুল হাকিম ভোগ দখল করেন। আব্দুল হাকিম মৃত্যুর পরে তার ওয়ারিশগন ও ভোগ দখল করতে থেকেন।এরই ধারাবাহিকতায় সিএস খতিয়ানের মালিক ও প্রকৃত সম্পত্তি ধারাবাহিক দাঁড়াভাহিক খতিয়ানে আর এস ৩০৬ ও এস এ ১০২ নং খতিয়ানে ৬৩৭/৭১৬ নং দাগে আব্দুল হাকিমের নামে রেকর্ড হয়। এই জমিতে আমাদের বাগান ও ফসলের জমিতে আমরা ভোগদখল করে আছি।গত ৭/৮ মাস আগে ভুমি দস্যু মৃত্যু আচমত আলীর ছেলে জামাল উদ্দিন ও মৃত্যু আব্দুল কাদেরের ছেলে আব্দুল মান্নামসহ এক দল ভূমিদস্যুরা এসে আমাদের বাগানের গাছ কাটতে থাকে এসময় আমাদেরকে বিভিন্ন রকম দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হুমকি দামকি দিতে থাকে। পরে আমরা ভোলা সদর থানার অভিযোগ করলে পুলিশ এসে গাছ কাটা বাধা দিয়ে বন্ধ করে দেন। পরে থানায় ও উকিল লাইব্রেরী সহ একাদিক জায়গায় শালিশ হয়।কিন্তু তারা কোন শালিশ ফয়সালা মানেনি।
পরে উক্ত ভূমিদস্যুরা আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এম,পি ৬২৬/২৫ ভোঃ মামলা দাখিল করেন।পরে তহসিলদার মোশারফ হোসেন ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হাবুল আকন সরেজমিনে তদন্ত করেন। তহসিলদার ও উপ-সহকারী তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আমাদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবী করে।আমরা টাকা না দেওয়া তাহসিদার ও সহকারী ৪/৫ মাসে ও কোন তদন্ত প্রতিবেদন দেননি। তহসিলদারের পরামর্শে উক্ত ভূমিদস্যুরা উক্ত মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। পরে আবার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এম,পি ২১২/২৬ ভোঃ আরজি সংশোধন একটি মামলা দাখিল করেন। পরে ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হাবুল আকন সরেজমিনে আবার ও ১২-৫-২৬ ইং তারিখে তদন্ত করেন। স্থানীয় চিহ্নিত ভূমি দস্যু জামাল ও আব্দুল মান্নানগংদের নানা ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করে আসছে।সবচেয়ে দুঃখজনক ও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এই ভূমি দস্যুদের সাথে আঁতাত করে স্থানীয় তহসিলদার মোশাররফ হোসেন ও ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হাবুল আকন সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতমূলক একটি তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করেছেন। তিনি অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দস্যুদের পক্ষে রিপোর্ট দিয়েছেন।একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি কীভাবে একজন ভূমি দস্যুকে সহযোগিতা করতে পারেন? এই মিথ্যা রিপোর্টের কারণে আজ আমরা আমাদের ওয়ারিশ সম্পত্তি হারানোর দ্বারপ্রান্তে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবী করেন বলে, ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ও ভুমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা হাবুল আকন এর দেওয়া মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত রিপোর্ট বাতিল করা হোক। সরেজমিনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আমাদের ওয়ারিশি জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিশ্চিত করা হোক। জড়িত ভূমি দস্যুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।