পটুয়াখালীর দশমিনায় একটি মোবাইল টাওয়ার নির্মাণকাজে বাধা দেওয়া এবং অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে নোমান হোসেন বাবু সিকদার নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে উপজেলার কাপুরিয়াকাচারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাপুরিয়াকাচারি এলাকায় মো. বাহাদুর সিকদার ও তার ওয়ারিশদের জমিতে একটি মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ৩০ বছরের চুক্তি সম্পন্ন হয়। শুক্রবার সকালে টাওয়ার নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হলে আফজাল সিকদারের ছেলে নোমান হোসেন বাবু সিকদার, আল-আমিন সিকদার এবং বেলায়েত হোসেন সিকদারের ছেলে রাইহান সিকদার ওই জমিতে নিজেদের মালিকানা দাবি করে কাজে বাধা দেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাধা দেওয়ার একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখান। খবর পেয়ে চুক্তিবদ্ধ জমির মালিক বাহাদুর সিকদার ঘটনাস্থলে গেলে তার সঙ্গেও বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন নোমান হোসেন বাবুকে একটি ধারালো অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় এবং অস্ত্রটি জব্দ করে।
টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ হোসেন বলেন, “জমির মালিকের সঙ্গে বৈধ চুক্তির ভিত্তিতে আমরা টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু করি। কিন্তু কয়েকজন ব্যক্তি এসে কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয়রা একজনকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।”
অভিযুক্ত নোমান হোসেন বাবু বলেন, “যেখানে টাওয়ার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে সেখানে আমারও জমি রয়েছে। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ চলমান রয়েছে। বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় আমি কাজ করতে বাধা দিয়েছি।” তবে তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
জমির মালিক মো. বাহাদুর সিকদার দাবি করেন, “জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ভোগদখলে রয়েছে। টাওয়ার নির্মাণের জন্য আমরা বৈধভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক জমির দাবি করে কাজ বন্ধের চেষ্টা করছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নোমান হোসেন বাবুকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।