পটুয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে জেলার সকল পৌরসভার সভাপতি ও সেক্রেটারিদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এক শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পটুয়াখালী শহরের মল্লিকা রেস্তোরাঁর হলরুমে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আল কায়ছারী। এ সময় পবিত্র কুরআন থেকে দারসুল কুরআন পেশ করেন জেলা মজলিসে শূরা সদস্য ও কলাপাড়া উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম।
শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবুল হাসান মোহাম্মদ আব্দুল হালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের সংগঠনের মৌলিক কাজ তিনটি—দাওয়াত, সংগঠন ও সংঘবদ্ধতা। আজ অনেকেই আমাদের সমালোচনা করে, কিন্তু বাস্তবে তারা আমাদের অনেক কর্মসূচি অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে। ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সৈয়দ আবুল আ’লা মওদুদী (রহ.) যে বৈজ্ঞানিক, সুশৃঙ্খল ও কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক দর্শন উপস্থাপন করেছিলেন, তার কার্যকর বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।” তিনি আরও বলেন, এই দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো যুবসমাজের চিন্তা-চেতনার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও বরিশাল অঞ্চলের পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান। এ ছাড়া শিক্ষাশিবিরে পটুয়াখালী সাংস্কৃতিক সংসদ ইসলামী সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির সমাপনী পর্বে বিকেল ৫টায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও পটুয়াখালী জেলা আমির মো. নাজমুল আহসান। তিনি সংগঠনের চলমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দায়িত্বশীলদের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের আদর্শিক, সাংগঠনিক ও নেতৃত্ব বিকাশে দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে পৌরসভা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা ও আদর্শিক চেতনা সুদৃঢ় হবে।