পটুয়াখালীর বাউফলে বাড়িতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানোর খরচ নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে রবিন হালদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী, দুই ছেলেসহ চারজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার কালাইয়া বাণিজ্য বন্দরের লঞ্চঘাট এলাকার পূর্ব পাশের হালদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রবিন হালদার ওই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হালদার বাড়ি ও পাশের ব্যাপারী বাড়িতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাইপ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কাজে ব্যয় নির্বাহের জন্য দুই বাড়ির বাসিন্দাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছিলেন রবিন হালদার। তবে পাইপ বসানোর খরচ দিতে অস্বীকৃতি জানান প্রতিবেশী রতন ব্যাপারী। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে রতন ব্যাপারী তার সহযোগীদের নিয়ে রবিন হালদারের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা লোহার পাইপ ও শাবল দিয়ে আঘাত করলে রবিন হালদারসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রবিন হালদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যরা হলেন—রবিনের স্ত্রী ঠাকুরানী হালদার (৪৫), দুই ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২৫) ও রনি হাওলাদার (২২) এবং আনন্দ ব্যাপারী। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার আল কাইয়ুম রবিন হালদারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ রতন ব্যাপারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘পাইপ বসানোর খরচ নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার প্রক্রিয়াধীন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’