পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পারিবারিক কলহের জেরে সাইয়েদুল আবেদিন (৪২) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুয়াকাটা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জুপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সাইয়েদুল আবেদিন বরগুনার তালতলী উপজেলার বন্দর এলাকার বাসিন্দা। তিনি গত প্রায় ২০ দিন ধরে স্ত্রী আয়েশা বেগমকে নিয়ে কুয়াকাটার পাঞ্জুপাড়ার শাহেদ শিকদারের মালিকানাধীন একটি সেমিপাকা বাসায় ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে সাইয়েদুল তার স্ত্রীকে মারধর ও গালাগাল করেন। রাতের খাবার খাওয়ার পর তাদের মধ্যে আবারও পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে স্ত্রীকে ঘরের বাইরে বের করে দিয়ে তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন।
দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে স্ত্রী ও প্রতিবেশীরা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি মহিপুর থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে ঘরের আড়ার সঙ্গে লুঙ্গি ও গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সাইয়েদুলের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে তাকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ওই ব্যক্তিকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’