পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেতাগী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত কচুরিপানায় ভরা খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নজির ফরাজি (৩৫) ওই গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ফরাজির ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২৫ মে) সকালে নজির ফরাজি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি।
রোববার বিকেলে স্থানীয়রা বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে দশমিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের ভাই রাসেল ফরাজি মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহতের ভাই রাসেল ফরাজি বলেন, "আমার ভাই মাঝে-মধ্যে কাউকে কিছু না বলে বাইরে চলে যেত এবং কয়েকদিন পর আবার ফিরে আসত। তাই প্রথমদিকে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম না। তবে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাইনি। আজ বাড়ির কাছের একটি খালে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, কেউ তাকে হত্যা করে খালে ফেলে দিয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।"
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"
বাংলাদেশে গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি-জমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জেরে খুনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা অনুযায়ী হত্যা মামলায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফরেনসিক তদন্ত, ডিজিটাল নজরদারি ও স্থানীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ উদঘাটন ও প্রতিরোধ সম্ভব।