পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি দলীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রাতে ফেসবুকে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকার সঙ্গে দলীয় পতাকা উত্তোলনের ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা জুড়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বলে মন্তব্য করছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের আত্মগোপনে থাকা কিছু নেতা-কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে নিজেদের রাজনৈতিক উপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বিভিন্ন নেতা-কর্মী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, "প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের আঁধারে কেউ গোপনে পতাকা উত্তোলন করে চলে গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দলীয় পতাকাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হকের অনুসারীরা বাউফলের ওই কার্যালয়টি ব্যবহার করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই বছর পর বন্ধ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের ঘটনাটি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশে সরকারি ও রাজনৈতিক ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট প্রোটোকল রয়েছে। সাধারণত সরকারি ভবনে শুধুমাত্র জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়, بينما রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে দলীয় পতাকাও উত্তোলন করা যেতে পারে। তবে বন্ধ বা পরিত্যক্ত কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন নিয়ে বিতর্ক নতুন ঘটনা নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক সংলাপ, আইনের শাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ ধরনের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।