পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগরীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধমুক্ত করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে নগরীজুড়ে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়। রাত ৮টার মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ, সড়ক পরিষ্কার এবং জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ সম্পন্ন করা হয়।
বিসিসির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমের সার্বিক মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা সাকলাইন মোস্তাক শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নগরীকে বর্জ্যমুক্ত করা যায়।
বিশাল এ কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে বরিশাল নগরীকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হয়। প্রায় ৭০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী একযোগে মাঠে কাজ করেন। বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয় ১০টি ডাম্প ট্রাক এবং তিনটি হুইল লোডার। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিতরণ করা হয় পাঁচ হাজার বিশেষ ব্যাগ।
দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়। পাশাপাশি কোরবানির পশুর রক্ত ও ময়লা পরিষ্কারে পানিবাহী তিনটি বড় যানবাহন সড়ক ধোয়ার কাজে নিয়োজিত ছিল।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়, নগরবাসীর জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। পরিচ্ছন্নতার পর সড়কে পশুর রক্তের সামান্য দাগও যেন দৃশ্যমান না থাকে, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
শুক্রবার নগরীর বগুড়া রোড এলাকার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত বর্জ্য ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন। তাদের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই পানিবাহী গাড়ি দিয়ে রাস্তা ধোয়া এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটানোর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান খন্দকার রাফি বলেন, “আগের বছরগুলোতে ঈদের পরদিনও রাস্তায় দুর্গন্ধ থাকত, রক্ত ও বর্জ্য জমে থাকত। এবার কোরবানি শেষ হওয়ার পরপরই বর্জ্য অপসারণ ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। বিকেলের মধ্যেই চারপাশ পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছে।”
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো নগরীকে পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে।