পটুয়াখালীর বাউফলে ঈদের দিন সকালে আলমাস হোসেন মৃধা (৩৫) নামের এক ট্রলি চালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে উপজেলার নাজিরপুর-তাঁতেরকাঠি ইউনিয়নের সহিস্যা গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আলমাস হোসেন মৃধা ওই গ্রামের সিরাজ মৃধার ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে শিলা বেগমকে বিয়ে করেন আলমাস। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি ফারজানা নামের এক নারীর সঙ্গে আলমাসের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ চলছিল বলে স্বজনদের দাবি।
স্বজনরা জানান, বুধবার গভীর রাতে স্ত্রী ও সন্তানদের ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে আলমাস ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে বাইরে থেকে শয়নকক্ষের দরজা আটকে পাশের একটি কক্ষে প্রবেশ করেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী তাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে শয়নকক্ষের দরজা ভেঙে বাইরে বের হয়ে পাশের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকির পরও সাড়া না পেয়ে জানালা দিয়ে তাকিয়ে আলমাসকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসে।
খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে।