পটুয়াখালীর বাউফলে ২৪টি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও প্রায় ২৪০ কেজি চাল ঘরে তোলার সময় এক ইউনিয়ন জামায়াত নেতা জনতার হাতে আটক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাকিল শিকদার কেশবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুল মাল সম্পাদক।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মমিনপুর বাজারে বসবাস করেন সাকিল শিকদার। রাতে কয়েকটি বস্তাভর্তি প্রায় ২৪০ কেজি চাল তার বাসায় তোলার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তার কাছ থেকে ২৪ জন টিসিবি পণ্য সুবিধাভোগীর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কার্ড ও চাল ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশের সদস্য হাসানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, টিসিবি পণ্য রাতে বিতরণ করা হয় না, তবে রাতে তারা কীভাবে চাল পেলেন?
অভিযুক্ত সাকিল শিকদার দাবি করেন, আটকের ঘটনাটি স্থানীয় বিএনপির সাজানো নাটক। তিনি বলেন, "আমার ছোট ভাই রাজিব ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালায়। এক বছর ধরে টিসিবির সুবিধাভোগীরা রাজিবের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করে আসছেন। বিনিময়ে রাজিব সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে পায়। আজও ২৪ জনের পণ্য ক্রয় করেছে সে। প্রথম গাড়িতে চাল নিয়ে আসার পর সেগুলো ঘরে তোলার সময় হঠাৎ বিএনপি কর্মীসহ কিছু লোক এসে ঝামেলার সৃষ্টি করে।"
তার বাসায় কেন চাল তোলা হচ্ছিল এবং রাতে কেন আনা হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, "সব পণ্য সুবিধাভোগীরা দিনের বেলায় নিয়ে যাবেন। রাতে নিরাপদে রাখার জন্য সেগুলো আমার বাসায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।"
সাকিল শিকদার আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস বয়াতীর অনুসারীরা জামায়াতের এক কর্মীকে কুপিয়ে জখম করে এবং একটি মামলায় তাকেই জেলে পাঠায়। এ ঘটনায় তিনি প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, "ঘটনাটি আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাংলাদেশে টিসিবি (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) এর মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়। স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও লক্ষ্যভিত্তিক বিতরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কার্ড অপব্যবহার, পণ্য আত্মসাৎ বা অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ মাঝেমধ্যেই উঠে আসে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডিজিটাল মনিটরিং, স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে টিসিবি কার্যক্রমে অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।