পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পারার মানসিক চাপে সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক মাওলানা আবুল কালাম খান গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্বহস্তে লেখা একটি চিরকুট জব্দ করেছে, যাতে ছয়জন পাওনাদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির আঙিনার একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় আবুল কালাম খানকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জব্দকৃত চিরকুটে পাওনাদার হিসেবে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দক্ষিণ মুরাদিয়ার পিলার ব্যবসায়ী উত্তম বাবু, হান্নান শিকদার, দেলোয়ার হোসেন টিটু খাঁ, ছালাম মৃধা, মিলন মৃধা ও কালাম মৃধার নাম রয়েছে। চিরকুটে উল্লেখিত ব্যক্তিদের নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আর্থিক সংকট ও দেনার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন আবুল কালাম খান। তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন এবং পেশায় দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, "ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
বাংলাদেশে আর্থিক সংকট, দেনার চাপ ও সামাজিক মর্যাদাহানির কারণে আত্মহত্যার ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ মাঝেমধ্যে ঋণের চাপে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব।